ক্রইম সন্ধান ডেস্ক
খুলনায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে মাত্র এক লাখ টাকার চুক্তিকে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে; ফাতিহা (৭) ও মুস্তাকিমসহ (৮) ও হত্যা করা হয় তাদের নানী মহিতুন্নেছাকে (৫৩)।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ। এর আগে, গত ১৬ নভেম্বর দুপুর একটার দিকে নগরীর লবণচরা এলাকার দরবেশ মোল্লা গলির শেফার আহমেদের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পরে গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ঘটনার মূল হোতা মো. শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সর্বশেষ শুক্রবার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন শামীম- এমনটাই ভাষ্য পুলিশের।
গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন, তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬) ও তাফসির হাওলাদার (২০)।
পুলিশ জানায়, নিহত ফাতিহা ও মুস্তাকিমের বাবা শেফার আহমেদের আপন মামাতো ভাই হলেন ফ্রান্স প্রবাসী মো. শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদ। জমি জমার বিরোধেই গত ১৬ নভেম্বর হত্যার শিকার হন ওই তিনজন। মাত্র এক লাখ টাকার চুক্তিতে এ মিশনে অংশ নেয় শামীমসহ ৭ জন। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার শামীম শেখ বিষয়টি ইতোমধ্যে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে শামীম আহমেদ গত শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ বলেন, রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের ভবাণীপুর গ্রামে ১ একর ৬৯ শতক পৈত্রিক জমি নিয়ে শেফার আহমেদের সঙ্গে তার মামাতো ভাই শামীমের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। ২০০৩ সালে শামীম একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। এরপর তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০১৭ সালে ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৭-৮ মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। জেলখানায় বসেই শামীম তার ফুফাতো ভাই শেফারের পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
আদালতে আসামির দেওয়া জবানবন্দির বরাতে পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, অস্ত্র মামলায় জেলে থাকাকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে শামীমের। জেলখানা থেকে বের হয়ে তিনি জেলখানায় পরিচিত সন্ত্রাসীদের ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে ফুফাতো ভাই সেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন। গত ১৬ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমের নেতৃত্বে ৭ জন নগরীর লবণচরা এলাকার দরবেশ মোল্লা গলির শেফার আহমেদের বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে দেওয়াল টপকে একজন ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান গেটের পকেট গেট খুলে দেয়। এরপর তারা বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে একে একে তিনজনকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে মুরগির খামারের কক্ষে রেখে দেয়। এরপর তারা শেফার আহমেদ ও তার স্ত্রী রুবি আক্তারকে হত্যা করার জন্য ওই বাড়িতেই অবস্থান করে। কিন্তু সেটি সফল করতে না পেরে তারা পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ আরও বলেন, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহম্মেদ ঘটনার দিন থেকে পলাতক ছিলেন। সে খুব গোপনে ফ্রান্সে পালিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।